হরমুজ নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে, ইরানের ৮ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা ও বন্ধ রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। এই গভীর সংকটের মধ্যেই ইরানে নতুন দফায় বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে, তা ধ্বংস করতেই মূলত এই নতুন আক্রমণ চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে হরমুজকে আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, ইরান জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে; যার ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণ ও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বাড়ছে। আরও পড়ুন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন / টানা ২০০ দিন সমুদ্রে ভাসছে বিমানবাহী রণতরি, চাপে মার্কিন নৌবহর যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান (Khuzestan) প্রদেশে। প্রদেশটির নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি দেশটির আধা-সরকারি স

হরমুজ নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে, ইরানের ৮ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা ও বন্ধ রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। এই গভীর সংকটের মধ্যেই ইরানে নতুন দফায় বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে, তা ধ্বংস করতেই মূলত এই নতুন আক্রমণ চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে হরমুজকে আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, ইরান জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ রাখার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে; যার ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণ ও উত্তেজনার পারদ হু হু করে বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান (Khuzestan) প্রদেশে। প্রদেশটির নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘আইএসএনএ’ (ISNA)-কে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে মার্কিন বাহিনী খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত আটটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বা শহরে একযোগে হামলা চালিয়েছে।

তিনি আরও জানান যে, এই হামলাগুলো কোনো একক আক্রমণ ছিল না, বরং স্থানীয় সময় রোববার দিনগত রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে বেশ কয়েকটি ধাপে এই মারাত্মক হামলাগুলো চালানো হয়।

খুজেস্তানের উপ-গভর্নর আরও জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় আক্রান্ত প্রতিটি এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কর্মকর্তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করছেন। হামলার পর সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আহভাজ (Ahvaz) বিমানবন্দর ধ্বংস বা আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও উপ-গভর্নর তা স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আহভাজ বিমানবন্দরের ওপর কোনো আঘাত আসেনি, বরং শহরটির উপকণ্ঠে দুটি স্থানে মার্কিন প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

এর আগে হায়াতি নিশ্চিত করেছিলেন যে, মার্কিন বাহিনীর ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর (Mahshahr) অঞ্চলের একটি কৃষি জমিতে সেচ কাজে ব্যবহৃত পানি তোলার পাম্পে সরাসরি আঘাত হানে। পাম্পিং স্টেশনে লাগা ওই গোলার আঘাতে ঘটনাস্থলেই একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন ও আরও চারজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে শুরু হওয়া এই মুখোমুখী সামরিক অবস্থান ও খুজেস্তানের শহরগুলোতে একের পর এক বোমাবর্ষণ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিকে একটি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow