কাঁচামরিচের ঝাঁজে পুড়ছে বাজার, কেজি ৪০০ 

ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচের দামে হঠাৎ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও যে কাঁচামরিচ ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। শনিবার (১ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর মেছুয়া বাজার, নতুন বাজার, চরপাড়া, কাচিঝুলি ও টাউনহল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আগের তুলনায় বেশি। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা কাঁচামরিচের বাজারে। দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অল্প পরিমাণ মরিচ কিনে বাজার ছাড়ছেন। কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেগুন, শিম, গাজর, টমেটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ। প্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভালো মানের কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা নষ্ট বা নিম্নমানের কাঁচামরিচও বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা কেজি দ

কাঁচামরিচের ঝাঁজে পুড়ছে বাজার, কেজি ৪০০ 
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচের দামে হঠাৎ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও যে কাঁচামরিচ ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। শনিবার (১ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর মেছুয়া বাজার, নতুন বাজার, চরপাড়া, কাচিঝুলি ও টাউনহল বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আগের তুলনায় বেশি। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা কাঁচামরিচের বাজারে। দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অল্প পরিমাণ মরিচ কিনে বাজার ছাড়ছেন। কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেগুন, শিম, গাজর, টমেটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ। প্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। টানা ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভালো মানের কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা নষ্ট বা নিম্নমানের কাঁচামরিচও বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ নিম্নমানের মরিচের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এছাড়া টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ২৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম রাখা হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। মেছুয়া বাজারে আসা নিলা আক্তার নামে একজন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই এখন চড়া। তার ওপর কাঁচামরিচের দাম ৪০০ টাকা হওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। এখন এক কেজি তো দূরের কথা, ২৫০ গ্রাম মরিচ কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ নতুন বাজারের ক্রেতা রহিমা খাতুন বলেন, ‘রান্নায় কাঁচামরিচ ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এই দামে কিনতে গেলে সংসারের মাসিক বাজেট পুরো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে আগের তুলনায় অনেক কম মরিচ কিনছি।’ চরপাড়া বাজারের ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁচামরিচের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমেছে—এটা ঠিক। তবে সেই সুযোগে কেউ যেন অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সেজন্য বাজারে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।’ সবজি বিক্রেতারা বলছেন, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় মরিচের খেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষেতের গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত কাঁচামরিচ আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে খুচরা বাজারে। কাচিঝুলি বাজারের সবজি বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মরিচের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। পাইকারি বাজারেই মরিচ কম আসছে। আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। শুধু মরিচ নয়, বৃষ্টির কারণে অন্য সবজির সরবরাহও কমে গেছে। তাই বেশিরভাগ সবজির দামই বেড়েছে।’ মেছুয়া বাজারের আড়তদার মহসিন আলম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে নতুন চালান এলে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমে আসতে পারে বলে আশা করছি।’ মহানগর সুজন সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষিপণ্যের সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হলে বাজারে দামের ওঠানামা স্বাভাবিক। তবে সেই পরিস্থিতিতে বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। তাই প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow